trespass tort law

অপরাধ মূলক অনধিকার প্রবেশঃ অনধিকার গৃহ প্রবেশ

ফৌজদারি আইন

পৃথিবীতে সামান্য কিছু কাজ ব্যতীত প্রায় সব ধরনের কাজ অনুমতি নিয়ে করলে তা অপরাধের কাতারে পড়ে না, কিন্তু একই কাজ কেবল অনুমতি না নেওয়ার কারণে অপরাধে পরিণত হয় যা কিনা কখনো কখনো গুরুতর অপরাধ হিসেবেও পরিগণিত হয়ে থাকে। অনুমতি নিয়ে কাউকে প্রহার বা খুন করা যায় না, কেননা সেটা সর্বদাই অবৈধ বা বেআইনি। কিন্তু, একজন পুরুষ একজন নারীর সম্মতি নিয়ে যৌন সহবাস করলে সেটি ধর্ষণ হিসেবে পরিগণিত হয় না। শুধুমাত্র এই সম্মতি বা অনুমতি না নেওয়া হলে সেটি ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে।
বাসা বাড়িতে বা রাস্তা ঘাটে ভিক্ষুক আপনার কাছে ভিক্ষা চাইলে আপনি সেটি দিতেও পারেন আবার নাও দিতে পারেন। আবার, ভিক্ষুক যখন আপনাকে ভিক্ষা দিতে জোর করবে বা বল প্রয়োগ করবে, তখন সেটি কিন্তু আর ভিক্ষা থাকছে না, হয়ে যাচ্ছে বলপ্রয়োগ গ্রহণ। আজকে আমরা তেমনি একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো যেটি কিনা অনুমতি নিয়ে করলে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু অনুমতি না নিয়ে বা জোর পূর্বক সম্পাদন করলে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে

জাতি হিসেবে বাঙ্গালী জাতির একটি বেশ সুনাম রয়েছে, অতিথি আপ্যায়নের। যখন তখন একা বা দল বেঁধে মেহমান আসার প্রচলন কিন্তু আমাদের এই অঞ্চলে বেশ অনেক দিন থেকেই। তাছাড়া, গ্রীষ্মের ছুটি, ডিসেম্বরে বাচ্চাদের স্কুলের ছুটি, ঈদের ছুটি, পূজার ছুটি সহ নানা বিধ বাহানায় আমাদের দেশের মানুষ এক আত্মীয়ের বাসা থেকে অন্য আত্মীয়ের বাসায় বেড়ানোকে একদম স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। কখনো শুনা যায় না যে, কেউ আত্মীয় আসাটাকে আটকানোর জন্য মুখে উপর না করে দিয়েছে বা দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। সবাই যে আনন্দিত হয়, তাও কিন্তু নয়। অনেকেরই বিভিন্ন অসুবিধা থাকে এবং নানা কারণে আপত্তি থাকলেও সকলেই মুখে প্রকাশ না করে নীরবে সহ্য করে যায়। কারণে, হিন্দুরা অতিথিকে ভগবান/নারায়ণের ন্যায় সম্মান করে আর মুসলমানরা ফেরেশতার মত। তাই, অতিথি বা আত্মীয়কে সবাই বেশ সম্মান সহকারে যত্ন করে।

শুধুই যে লম্বা বেড়ানোর জন্য অতিথি আসে তা কিন্তু নয়। সাময়িক বেড়ানোর জন্যও মানুষ কম আসে না। আমরা জাতি হিসেবে আড্ডাবাজও কম নই। আড্ডা দিতে যখন তখন বন্ধুর বাসায় আমরা একা বা দলবল মিলে হামলা চালাই। খেলা দেখার ছুতোয় বা মন ভালো লাগছে না বলেই আমরা সবাই গিয়ে উঠি বন্ধুর বাসায় বা কোন আত্মীয়ের বাসায়।
উপরিউক্ত যেকোনো কারণে বা অন্য যেকোনো ছুতোয় আমরা আত্মীয়ের বাসায় বা প্রতিবেশীর বাসায় বা অপরিচিত কারো বাসায় গমন করি না কেন, সেটি যদি উক্ত হোস্টের ইচ্ছায়, সম্মতিতে বা অনুমতি সাপেক্ষে হয়ে থাকে তাহলে তো কোন সমস্যাই নেই। কিন্তু, যদি হোস্টের অনিচ্ছায়, সম্মতি ছাড়া বা অনুমতি ব্যতিরেকে যদি কেউ তার সম্পত্তির ভেতরে প্রবেশ করে তবে সেটি হবে অপরাধ মূলক অনধিকার প্রবেশ।

 

অপরাধ মূলক অনধিকার প্রবেশকে আইনত সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে অনেকটা এই ভাবে যে, যখন কেউ আপনার সম্পত্তি তথা জায়গার ভেতরে কোন প্রকার অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের অভিপ্রায়ে প্রবেশ করে, তখন তাকে বলা হবে অপরাধ মূলক অনধিকার প্রবেশ। অপরাধ মূলক অনধিকার প্রবেশ সাধারণত ৩ প্রকার। এই প্রকারভেদটি করা হয়েছে সময় এবং অবস্থানের উপর ভিত্তি করে।
(১) অনধিকার গৃহ প্রবেশ বা House Trespass.
(২) সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহ প্রবেশ বা Lurking House Trespass.
(৩) রাত্রি বেলায় সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহ প্রবেশ বা Lurking House Trespass by Night.

 

অনধিকার প্রবেশ/

Criminal Trespass

ব্যাখ্যা শাস্তি
অনধিকার গৃহ প্রবেশ/

House Trespass

যখন কেউ আপনার গৃহে অপরাধ মূলক অনধিকার প্রবেশ করে, তখন তাকে বলা হবে অনধিকার গৃহ প্রবেশ। যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ড যার মেয়াদ ১ বছর পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদণ্ড যা কিনা ১০০০ টাকা পর্যন্ত হতে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহ প্রবেশ/

Lurking House Trespass

যখন কেউ আপনার গৃহে গোপনে অপরাধ মূলক অনধিকার প্রবেশ করে, তখন তাকে বলা হবে সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহ প্রবেশ। যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ড যার মেয়াদ ২ বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং সাথে অবশ্যই অর্থদণ্ড দেওয়া হবে। অর্থদণ্ডের পরিমাণ আদালত যেটি উপযুক্ত মনে করেন, সেটিই প্রদান করবেন।
রাত্রি বেলায় সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহ প্রবেশ/

Lurking House Trespass by Night

কোন ব্যক্তি যদি আপনার গৃহে সূর্যাস্তের পরে এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহ প্রবেশ করে, তবে সেই ব্যক্তি রাত্রি বেলায় সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহ প্রবেশ করে বলে গণ্য হবে।

যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ড যার মেয়াদ ৩ বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং সাথে অবশ্যই অর্থদণ্ড দেওয়া হবে। অর্থদণ্ডের পরিমাণ আদালত যেটি উপযুক্ত মনে করেন, সেটিই প্রদান করবেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অনধিকার গৃহ প্রবেশ বলতে আপনার কি কি সম্পত্তিকে গৃহ হিসেবে বিবেচনা করা হবে?
• মানুষের বসবাসের স্থান,
• দালান,
• তাঁবু
• উপাসনার স্থান
• সম্পত্তি সংরক্ষণের স্থান।
উল্লেখ্য, অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ করলেই অনধিকার প্রবেশ সংঘটিত হলেও অপরাধ মূলক অনধিকার প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিপ্রায় থাকতে হবে
• অপরাধ সংঘটনের
• ভীতি প্রদর্শনের
• বিরক্তি করার।
অনেক সময় দেখা যায় যে, কোন প্রকার অপরাধ সংঘটন বা ভীতি প্রদর্শন বা বিরক্তি করার অভিপ্রায় না থাকা সত্ত্বেও কেউ ভুল করে বা এমনিতেই কোন উদ্দেশ্য ব্যতিরেকেই আপনার আমার সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশ করতে পারে যা কিনা অপরাধ মূলক অনধিকার প্রবেশ হিসেবে গণ্য হবে না। আজ এই পর্যন্তই; আগামী পর্বে আমরা ইনশাআল্লাহ্‌, ‘অপথে গৃহ প্রবেশ বা সিঁধ কেটে গৃহ প্রবেশ’ নিয়ে আলোচনা করবো।

close

Subscribe

Subscribe to get an inbox of our latest blog.