নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা করলে অভিযোগকারীর শাস্তি কি?
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা করলে অভিযোগকারীর কী শাস্তি হতে পারে? আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা প্রতিরোধের আইনি উপায়।
description
ট্রান্সক্রিপ্ট (Transcript)
expand_more
00:00 – 00:59
২০১৯ এর শেষ দিকে এবং পুরো ২০২২ সাল পর্যন্ত পৃথিবী এক নজিরবিহীন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল কোভিড-১৯ এর কারণে। পুরো পৃথিবী স্থবির হয়ে গিয়েছিল এবং এর রেশ চলেছিল ২০২১ সাল পর্যন্ত। এরপর ধীরে ধীরে আমরা স্বাভাবিক হতে শুরু করি। তবে এই ভাইরাস আমাদের মনে এক গভীর দাগ কেটে গেছে। জীবনের অন্য সব সংকটের মতো আমাদের সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহারও একটি বড় সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
00:59 – 02:04
আমরা মা-বোনদের যথেষ্ঠ সম্মান করি। তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, অনেক ক্ষেত্রে এই আইনের অপব্যবহার করে স্বামী বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার মাধ্যমে অনেক সময় পুরুষদের হয়রানি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পারিবারিকভাবে স্বামী ও তার পুরো ফ্যামিলিকে বিবাদী করা হয় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে।
02:04 – 03:19
একটি পুরুষ যখন ভিকটিম হয়, তখন দেখা যায় সাধারণত স্বামীর নামে মামলা করা হচ্ছে এবং সাথে পরিবারের অন্যদেরও জড়ানো হচ্ছে। যদিও সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন, তবে দেখা যাচ্ছে যে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে এসব মামলা আপোষে শেষ হয় অথবা প্রমাণিত হয় না। মূলত ডিভোর্সের সময় দেনমোহরের টাকা দ্রুত আদায় করার হাতিয়ার হিসেবে এই আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে।
03:19 – 04:29
দেনমোহরের টাকা পরিশোধ না করার বাহানা হিসেবে বা অন্য কোনো পারিবারিক বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। যারা প্রকৃত ভিকটিম তারা হাহাকার করছে, অথচ সমাজ কাঠামোতে এই আইনের ভুল প্রয়োগের কারণে বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। প্রকৃত ভিকটিমদের পাশ কাটিয়ে অনেক সময় প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এই মামলাগুলো করা হয়।
04:29 – 05:41
আমাদের দেশে আইনের কিছু ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক সময় ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ মিথ্যা মামলা করে থাকে, তবে ঐ ব্যক্তির অনধিক ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে। তাই আপনার বিরুদ্ধে যদি কোনো মিথ্যা মামলা হয়, তবে ধৈর্য ধরে আইনি পথে এগুতে হবে।
05:41 – 06:15
আদালতে আপনি যখন নিজেকে নির্দোষ বা ইনোসেন্ট প্রমাণ করবেন, তখন প্রমাণিত হয়ে গেল যে মামলাটি মিথ্যা ছিল। তখন আপনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করতে পারবেন।
শেয়ার করুন
সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য
সবগুলো দেখুন
স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর এবং স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর অধিকার
স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুতে একে অপরের সম্পত্তিতে কতটুকু অধিকার থাকে? সন্তান থাকা বা না থাকার ওপর ভিত্তি করে আনুপাতিক হার...
play_arrow ভিডিও দেখুন
তালাকের পর সন্তানের দায়িত্ব ও ভরণপোষণ | Child Custody After Divorce in BD
বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানের জিম্মা বা রক্ষণাবেক্ষণ কে পাবে? মুসলিম আইন অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে মা ও বাবার...
play_arrow ভিডিও দেখুন
বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করা অপরাধ কিনা?
বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ কি অপরাধ? দ্বিতীয় স্ত্রীর আইনি অবস্থান এবং উচ্চ আদালতের...
play_arrow ভিডিও দেখুন